শনিবার, জুলাই ১১, ২০২০
প্রধান ম্যেনু

এক পাতায় কলারোয়ার সবকিছু

কলারোয়ার সাধক যবন হরিদাস

    ১৪৫০ খ্রীষ্টাব্দে যবন হরিদাস কলারোয়া থানার কেঁড়াগছি গ্রামে জন্মগ্রহন। তিনি নিন্মবর্ণের হিন্দু পরিবারের সন্তান। তার পিতার নাম মনোহর এবং মাতার নাম উজ্জলা। জন্মের পৃর্বে তিনি পিতৃহারা হন। জন্মের কিছুদিন পরেই মাতা মারা গেলে ব্রাক্ষন সম্প্রদায় কর্তৃক তিনি পরিত্যক্ত হন। হরিদাস বৈষ্ণ ধর্মের অন্যতম প্রচারক ছিলেন। বাল্যকালে হরিদাস মুসলমানদের কাছে লালিত পালিত হয়েছিল বলে তাকে যবন হরিদাস বলা হতো। ইতিহাসে জানা যায়, শ্রী চৈতন্যদের যখন বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করেছিলেন, সেই সময় কেড়াঁগাছি গ্রামের যবন হরিদাসের বড় ভাই সন্নাসী হয়ে চলে যান। যবন হরিদাস মায়ের গর্ভে থাকতে তার পিতাও সন্নাসী হয়ে অন্যত্র চলে যান এবং কিছুদিন পরে মৃত্যুবরণ করেন। হরিদাস নিন্মবর্ণের হিন্দু সন্তান ছিলেন বিধায় উচ্চবর্ণের হিন্দু ব্রাক্ষনরা তাকে প্রতিপালন করতে সম্মত না থাকায় ২৪ পরগনা জেলার স্বরুপনগর থানার হাকিমপুর গ্রামের হাব্বিুল্লাহ কারিগর হারদাসকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তিনি হরিদাসকে সন্তান ¯েœহে প্রতিপালন করতে থাকেন। ক্রমে বয়স বাড়তে থাকলে হরিদাস সকল সময় হরিনাম জপ করতে শুরু হরে এবং একজন চৈতন্য ভক্ত হয়ে পড়ে। মুসলমান ঘরে হরিনাম জপ বন্ধ করার জন্য হাকিমপুর ছেড়ে যশোর জেলার শার্শা থানাধীন পাটবাড়ী ও কাগজপুকুর গ্রামে যেয়ে হরিনাম জপ করতে থাকে। কিছুদিন পরে তিনি শ্রী চৈতন্যদেবের শিষ্যত্ব গ্রহন করেন এবং কয়েক মাসের মধ্যে হরিদাস শ্রী চৈতন্যের অন্যতম শিষ্য হিসেবে পরিগনিত হন। তিনি কোনদিন কোনও দেবদেবির পূজা করেননি। হরিনাম জপই ছিল তার মূল মন্ত্র। হরিদাস মুসলমান ঘরে শৈশবকালে লালিত – পালিত হয়েছিলেন বলে বৈষ্ণব যুগে হরিদাসকে যবন আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। পরে যবন হরিদাস হরিনাম প্রচারে গৌড়ে গমন করেন। স্বাধীন সুলতান হোসেন শাহ্্ হরিদাসকে সন্মানের সাথে গ্রহন করেন এবং মহাবংশজাত বলে স্বীকৃতি দেন।


প্রবীনদের কাছ থেকে মতান্তরে জানা যায় যে, মায়ের মূত্যুার পর বালক হরিদাস শ্মশানে যেয়ে মায়ের মুখাগ্নি করে সেখানে ঘুমিয়ে যায়। পরের দিন পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর গ্রামের জনৈক নবীউল্লাহ গাজী তাকে শ্মশান ঘাট থেকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ী এনে প্রতিপালন করেন। গাজী সাহেবের একটি মেয়ে ছিল। সে শুধু দুধ চিনি ্ও মুড়ি খেত। মহৎ ্ও অকৃতদার গাজী সাহেব হরিদাসের সততা ও উদারতা লক্ষ্য করে তার সঙ্গে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মেেেয়র বিবাহের প্রস্তাব দেন বলে কথিত আছে। হরিদাস এই খবর জানতে পেরে সেখান থেকে পালিয়ে শার্শা থানার বেনাপোলের পাটবাড়ী কাগজপুকুর নামক গ্রামে চলে যান। হরিদাস সেখানে সৃস্টির সাধনা আরম্ভ করলেন। অল্পদিন পর হরিদাস ব্রাক্ষন সাধক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। কাগজপুকুরের জমিদার হরিদাসকে পরীক্ষা করার জন্য তার রক্ষিতা/নর্তকী হীরামাটিকে তার কাছে পাঠালেন। হিরামাটি হরিদাসের ধ্যান ভঙ্গ করার জন্য রাত্রে কয়েক ঘন্টা নাচ গান করে ক্লান্ত ও শ্রান্ত হয়ে মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। অবশেষে স্বাভাবিক ভাবে হরিদাসের ধ্যান ভঙ্গ হলে তিনি রক্ষিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “মা, তুই ছেলেকে দেখতে এসেছিলি”? একথা শোনার পর রক্ষিতা/নর্তকী হীরামাটির মনের আমুল পরিবর্তন হয়ে গেল। নর্তকী ইতোপূর্বে তার পাপের প্রায়শ্চিত করার শুভ বোধোদয় বুকে নিয়ে জমিদারের কাছ থেকে বিদায় নিলেন। তার যাবতীয় উপার্জন যথা সোনাদানা, টাকা – পয়সা ও অর্থ সম্পদ সাধক যবন হরিদাসের পদতলে সমার্পন করলো। নর্তকী হীরামাটি গেরুয়া বসন ধারণ করে হরিদাসের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তীর্থস্থান বৃন্দাবনে চলে গেল। পরবর্তীতে যবন হরিদাস নর্তকী হীরামাটির অর্থসম্পদ নিয়ে বেনাপোল থেকে বালুন্ডা,সামটা, বাগআঁচড়া,কাজীরহাট ও হেলাতলার মোড় থেকে পশ্চিম দিকে পাঁচপোতা, বোয়ালিয়া, কেঁড়াগাছি,তলুইগাছি হয়ে বসিরহাট পর্যন্ত রাস্তা তৈরী করেন। এই দীর্ঘ রাস্তাটি “হীরামাটির জাঙাল” নামে পরিচিত। যখন হরিদাসের আতœার অস্তিত্ব বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারের নিমিত্তে নিবেদিত ও উৎস্বর্গীকৃত ছিল। বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম প্রচারক ও সাধক যবন হরিদাস পুরীতে মৃত্যুবরণ করেন। পূরীর নিকটবর্তী শ্রীক্ষেত্রে তার সমাধি আছে।

লেখক –

প্রফেসর  অধ্যক্ষ (অব:) মো: আবু নসর, সাবেক অধ্যক্ষ, কলারোয়া সরকারী কলেজ।

একই রকম অন্যান্য তথ্যসমূহ

কলারোয়ার জমিদার রাণী রাশমনি

অকৃতোভয়, তেজস্বিনী, নির্ভিক বাঙালী বীরঙ্গনা রাশমুন ১৭৭৩ সালে ভারতের পশ্চিমবিস্তারিত

পিরামিড আকৃতির প্রাচীন স্থাপত্য সোনাবাড়ীয়া মঠবাড়ি

সাতক্ষীরার কলারোয়ার সীমান্ত জনপদ সোনাবাড়িয়া গ্রাম। সবুজে ঘেরা ছোট্ট গ্রামটিবিস্তারিত

“জনপদের নাম কলারোয়া”

বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের সীমান্তবর্তী শস্য-শ্যামলা প্রশান্ত ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশে কলারোয়াবিস্তারিত